দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের তাল গ্রামে বন্দুক হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন ফিলিস্তিনি এবং দুইজন ইসরায়েলি। কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিম তীরে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক ঘটনা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ঘটনার বর্ণনা নিয়ে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পক্ষের মধ্যে ভিন্ন দাবি রয়েছে।
স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের দাবি, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলার) তাল গ্রামে হামলা চালালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রতিরোধ করেন। পরে ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ জেইদান বিবিসিকে বলেন, প্রায় ৩০ জন সেটলার ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে হামলা চালালে স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ওই এলাকায় ভ্রমণে যাওয়া ইসরায়েলিদের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেনারা সেখানে যায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বসতি ফাঁড়ির নিরাপত্তারক্ষীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে এক ফিলিস্তিনি গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে সেনারা ওই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত চার ফিলিস্তিনিই একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
এ ঘটনায় আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পর পশ্চিম তীরে ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে আইডিএফ। পরে নাবলুসের একটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারেরও দাবি করেছে তারা।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাল গ্রামের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকারের রাজনৈতিক সমর্থন ও দায়মুক্তির কারণেই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে চলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অনুমোদনহীন ইসরায়েলি বসতি বৈধ করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে দেশটির কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর সঙ্গে গাজার মতো আচরণ করা উচিত। তার ভাষায়, ‘প্রত্যেক ইহুদি হত্যার জবাবে শত্রুপক্ষকে জমি ও বাড়িঘর হারাতে হবে।’
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে পশ্চিম তীরে এক হাজার ১১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৪১ জন ইসরায়েলিও নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/